বুড়িচংয়ে প্রতিবন্ধী শিক্ষিকার সঙ্গে এমপিও নিয়ে প্রতারণা।

 প্রকাশ: ২১ মে ২০২০, ১০:৩৮ অপরাহ্ন   |   জেলার খবর


বুড়িচং(কুমিল্লা) প্রতিনিধিঃ  


প্রতিবন্ধি নাছিমা আক্তার। মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার ব্রত নিয়ে ২০০৫ সালে শিক্ষকতা শুরু করেন কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ শ্যামপুর আলী নেওয়াজ ভূঁইয়া কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ে। যার ইআইআইএন কোডং নং-১০৫২৯১,এমপিও কোড নং-১০৫২৯১১২। খেয়ে না খেয়ে দীর্ঘ পনের বছর শ্রম দিয়ে গেছেন-একদিন এমপিও হলে সকল দুঃখ কষ্ট লাঘব হবে। কখনো সামান্য ভাতা পেয়েছেন আবার কখনো বেতন-ভাতা ছাড়াই শিক্ষাকার্যক্রম চালিয়ে গেছেন। ভরসা একটাই প্রতিষ্ঠাণটি এমপিওভূক্ত হলে জীবনের সকল স্বপ্নগুলো পূরণ করতে পারবে। কিন্তু হায়! ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্রের কাছে যেন পরাজিত সৈনিক হয়ে অকূল পাথারে দাবরিয়ে বেড়াচ্ছেন। 


শিক্ষিকা নাছিমা আক্তার বলেন, স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ নজির আহমেদ ভূঁইয়া ও প্রধান শিক্ষক মোঃ রোকনুজ্জামান কারসাজি করে আমাকে এমপিও থেকে বঞ্চিত করার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অফিসারের কার্যালয়ের মাধ্যমে আমার পরিবর্ততে সভাপতির ভাতিজি হাসিনা আক্তারের কাগজপত্র জমা করেন এবং এমপিওর জন্য অনলাইন করে। হাসিনা আক্তার নিমসার জুনাব আলী কলেজে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং এর খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছে। যিনি কোনদিনই দক্ষিণ শ্যামপুর আলী নেওয়াজ ভূঁইয়া কারিগরি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেনি। যখন স্কুলটি এমপিও তালিকায় নাম আসে তখন তড়িগড়ি করে সভাপতি নজির আহমেদ ভুঁইয়া প্রধান শিক্ষক মোঃ রোকনুজ্জামান আমার পদে হাসিনা আক্তারকে নিয়োগ দেখিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে এমপিওর জন্য অনলাইন আবেদন করে। ফলে আমার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম ও আশা-আকাক্সক্ষা এবং স্বপ্ন সবই ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। 



এই ব্যাপারে নাছিমা আক্তার বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ করেছে।

প্রধান শিক্ষক মোঃ রোকন্নুজামান বলেন আমার কোনো কিছুই করার নেই কারন সভাপতি ও কমিটির লোকজন সবাই একত্রিত হয়ে সভাপতির ভাতিজীকে নিয়োগ দিয়েছে নতুন করে। 

স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি নজির আহমেদ ভূঁইয়ার সাথে বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

মৃত আবদুল কাদের ভূঁইয়া এর পুত্র ( ব্যাংক কর্মকর্তা) আকসির আহমেদ ভূঁইয়া এর সাথে ফোনো কথা বলার সময় তিনি বলেন আমার এ বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিকও উচ্চ মাধ্যমিক অফিসারের সাথে কথা বলে সমাধান করব।                               

বুড়িচং উপজেলা মাধ্যমিক অফিসার মোঃ আব্দুল মান্নান এর সাথে কথা বলার সময় তিনি বলেন আমাদের কাছে বিষয়টি অভিযোগ আকারে এসেছে। আমরা বিষটি নিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নিব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইমরুল হাসান বলেন এ বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন তৎপর। যাথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এবং প্রধান শিক্ষকের ভূয়া সার্টিফিকেট এর বিষয়ে একটি অভিযোগ এসেছে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে যে চাকুরী পাওয়ার যোগ্য তাকেই চাকরি দেওয়া হবে। তদন্ত করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অফিসারকে।

জেলার খবর এর আরও খবর: