অবাদে চলছে ট্রাকে যাএী, ঢাকা আরিচা মহাসড়কে !

 প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২২, ০৪:৫৯ পূর্বাহ্ন   |   জাতীয়




মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃ- 


একদিন পরেই পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে প্রিয়জনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। বেলা বাড়ার সাথে সাথে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বেড়েছে ঢাকা আরিচা মহাসড়কে। মহাসড়কে বাসে জায়গা না পেয়ে ট্রাকে করে ছুটচ্ছে মানুষ।


মানিকগঞ্জের ঢাকা- আরিচা মহাসড়কটিকে বলা হয়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার প্রবেশ দ্বার কিন্ত ঈদে ঘরমুখো যাত্রীরা পরিবহন না পেয়ে ও প্রচণ্ড গরমে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।

 


সকাল থেকেই ঢাকা আরিচা মহাসড়কে শত শত যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাক দেখা গেছে পাটুরিয়া- দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে।  


ঈদে শিল্প-কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্তে ঢাকা ছেড়ে গ্রামের বাড়ি যাওয়া শুরু করেছে কর্মজীবী মানুষ। গণপরিবহনে জায়গা না পেয়ে কর্মজীবী মানুষ ঢাকা আরিচা মহাসড়কে পণ্যবাহী ট্রাকে করে গাদাগাদি করে ঢাকা ছেড়ে গ্রামের দিকে ছুটছেন।



ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ যে যেভাবে পারছেন গ্রামের বাড়ি ছুটছেন। শুধু মহাসড়ক দিয়ে নয় আঞ্চলিক সড়ক দিয়েও গ্রামে যাচ্ছে কর্মজীবী মানুষ।ছোট-বড় ট্রাকে গাদাগাদি করে গ্রামে যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। এছাড়াও কিছু গণপরিবহন ও মাইক্রোবাসেও ছুটছে কর্মজীবীরা। দ্বিগুণ থেকে চারগুন ভাড়া দিয়ে খোলা ট্রাকে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে এসকল মানুষ ঢাকায় ছেড়ে রওনা হয়েছে গ্রামে।পরিবহন সংকটের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা অতিরিক্ত ভাড়াও আদায় করছেন।


 


এদিকে ট্রাকে শুধু পণ্য পরিবহনের কথা থাকলেও পণ্যবাহী এসব ট্রাক চালকরা শত শত যাত্রী বহন করে ঢাকায় থেকে নিয়ে যাচ্ছে। মহাসড়কে পুলিশের চেকপোস্ট থাকলেও পুলিশ কোনো প্রকার ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতে করে শত শত ট্রাক গাদাগাদি করে হাজার হাজার যাত্রী বহন করছে।


যাএীরা জানায়, আজ পোশাক কারখানা ঈদের ছুটি দিয়েছে। ছুটির পরেই শ্রমিকরা পরিবারের সাথে ঈদ উদযাপনের জন্য মহাসড়কের বিভিন্ন বাসষ্ট্যান্ডে জড়ো হন ভাড়া গাড়িতে উঠার জন্য। কিন্তু গাড়ি না পেয়ে অনেকেই ট্রাক ও গাড়ির ছাদে বাড়িতে যাচ্ছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। চারশ’ টাকার ভাড়া এক হাজার থেকে ১২শ’ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে গাড়ি চালকদের।




স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় ভোগান্তি কমেছে ফেরিঘাটে এমনটাই অভিমত পোষণ করেছেন অনেক যাত্রী ও চালক। সকাল থেকেই পাটুরিয়া ঘাট থেকে শত শত যাত্রী ও যানবাহন নিয়ে ছেড়ে দৌলতদিয়া ঘাটে আসছে ফেরিগুলো।




মোটরসাইকেল চালক সাদ্দাম বলেন, সড়কে কোথাও কোন বাধার সম্মুখীন হইনি। মাঝে মধ্যে মহাসড়কে একটু যানজটে পড়তে হয়েছে। তবে মোটরসাইকেলে আসার কারণে দ্রুত আসতে পেরেছি। তিনি আরো বলেন, ঢাকার অধিকাংশ মানুষই মোটরসাইকেল ব্যবহার করে। ঈদে বাসে অতিরিক্ত ভাড়া, যানজটে আটকে থাকার চেয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে বাড়ি যাওয়াই ভালো। এতে সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচে। তবে সড়কে দেখেশুনে সবাইকে গাড়ি চালানোই ভালো।




বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক প্রফুল্ল চৌহান জানান, ঈদের বাকি আর মাত্র একদিন। আজ সকাল থেকেই ঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ রয়েছে। আমরা ভোগান্তি কমাতে সর্বক্ষণ ঘাটে কাজ করছি। বর্তমানে এ নৌরুটে ২১ ফেরির মধ্যে ১৯ টি ছোট-বড় ফেরি চলাচল করছে। বাকি ২টি ফেরি পাটুরিয়ার ভাসমান কারখানা মধুমতিতে মেরামতে রয়েছে।


উল্লেখ্য, এই নৌরুট দিয়ে আগে প্রতিদিন ৭/৮ হাজার যানবাহন ও কয়েক হাজার যাত্রী পারাপার হতো। তখন প্রতিদিনই ঘাট এলাকায় দীর্ঘ যানজট লেগে থাকত। এমনকি গত বছরগুলোতে ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হতো। ফেরি পার হতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মহাসড়কে যানবাহন আটকে থাকত। 


কিন্তু পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের সংখ্যা কমেছে। তবে আজ শুক্রবার সারাদিন থেকে ঈদে ঘরমুখো যাত্রী ও যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে দেশের অন্যতম এই ফেরি ঘাটে।



মোঃ- আরিফুর রহমান অরি

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

জাতীয় এর আরও খবর: