গ্যাষ্ট্রিক আলসার নিরাময়ে হোমিও চিকিৎসা।

 প্রকাশ: ১১ মে ২০২০, ০১:১৫ অপরাহ্ন   |   বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি


ডা. জি এম মাকছুদুর রহমান:


পেটে অসহ্য যন্ত্রণা, বমিভাব, গ্যাস এইসব লক্ষণ মিলিয়েই পেপটিক আলসারের সমস্যা দেখা যায়।পেপটিক আলসারকে সাধারণভাবে গ্যাস্ট্রিক আলসার বা আলসার বলা হয়। গ্যাস্ট্রোইনটেসটিনাল ট্র্যাক্টের যে কোনও অংশে আলসার হতে পারে। কিন্তু অ্যাসিড এবং পেপসিনের কারণে স্টমাক বা ডিওডেনাম যখন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তখন সেটাকে পেপটিক আলসার বলা হয়।

অন্যান্য অনেক কারণ যেমন-  ড্রাগ,অটোইমিউন ডিজিজ, টাইফয়েড, রেডিয়েশন ইত্যাদির জন্যে মুখ, এসোফেগাস, স্মল ইনটেসটাইন এবং লার্জ ইনটেসটাইনে আলসার হতে পারে। তবে এই ধরনের আলসার চিরাচরিত ‘পেপটিক আলসার’- এর থেকে একেবারেই আলাদা। পেপটিক আলসারের সমস্যা প্রায় অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। যে কোনও বয়সেই পেপটিক আলসারের সমস্যা হতে পারে। তবে সাধারণভাবে কমবয়সীদের মধ্যে পেপটিক আলসারের সমস্যা বেশি দেখা যায়।

পেপটিক আলসার হওয়ার কারণঃ

# অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণ এবং পাকস্থলীর ঝিল্লি আবরণী বা মিউকাস মেমব্রেনের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া।

# বংশগতঃ পেপটিক আলসারের রোগীদের ক্ষেত্রে বংশগত প্রভাব লক্ষ করা যায়। দেখা গেছে বাবা-মায়ের পেপটিক আলসার থাকলে তা সন্তান-সন্ততিরও হচ্ছে।

# অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়াঃ ঠিকমতো খাবার চিবিয়ে না খেলে কিংবা অনিয়মিত খাবার খেলে পেপটিক আলসার হয়। আমাদের শরীর মূলত বায়োলজিক্যাল ঘড়ি। খাওয়া-দাওয়ার বেলায় সাধারণত আমরা একটা নিয়ম মেনে চলি। অর্থাৎ সকালে নাশতা, দুপুরে ভাত, বিকেলে নাশতা, আবার রাতে ভাত। এই খাদ্যাভ্যাস অনুসারে পাকস্থলীতে এসিড নিঃসৃত হয়। অর্থাৎ যে যেভাবে খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলবেন তার এসিড নিঃসরণের ব্যাপারটা সেভাবে ঘটবে। যারা উপরি উক্ত অভ্যাসে অভ্যস্ত তারা যদি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটান অর্থাৎ দুপুরের খাবার বিকেলে কিংবা রাতের খাবার নির্দিষ্ট সময়ে না খেয়ে আরো পরে খান, তাহলে এসিড নিঃসরণের ফলে দেখা দেবে জটিলতা। এভাবেই সৃষ্টি হয় আলসারেরর।

# ধূমপানঃ ধূমপানের প্রভাবে পাকস্থলীর আবরণী ঝিল্লি নষ্ট হয় এবং এসিড নিঃসরণের মাত্রাও বেড়ে যায়। ফলে অনিবার্যভাবে সৃষ্টি হয় আলসার।

# মসলাযুক্ত খাবারঃ অতিরিক্ত তেল, ঝাল এবং মসলাযুক্ত খাবার এসিড নিঃসরণের মাত্রা বাড়িয়ে পেপটিক আলসার তৈরিতে সাহায্য করে। বাসি খাবারও তাই।

# চা, কফি কিংবা অ্যালকোহল পান

এসব পানীয় পেপটিক আলসারের অন্যতম কারণ। যারা চা, কপি কিংবা অ্যালকোহলে আসক্ত তাদের পেপটিক আলসার হবেই।

# ব্যথার ওষুধঃ পেপটিক আলসারে আক্রান্ত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো দীর্ঘ দিন ব্যথার ওষুধ খাওয়া। ব্যথার ওষুধ খালিপেটে খেলে কিংবা এই ওষুধের সাথে অ্যান্টাসিড বা রেনিটিডিন জাতীয় ওষুধ না খেলে পেপটিক আলসারে আক্রান্ত হতে হয়। পেপটিক আলসারের লক্ষণঃ

# আলসারের লক্ষণ কম থেকে বেশি সব ধরনের হতে পারে। অনেক সময় খুব কম সময়ের জন্যে এই লক্ষণগুলো দেখা যেতে পারে। আবার অনেক সময় বেশ কয়েকমাস ধরে এই ধরনের সমস্যা দেখা যেতে পারে।

# খাওয়ার আগে বা পরে পেটের উপর দিকে ব্যথা বা অস্বস্তি হয়। খাওয়ার পরে ব্যথা বা অস্বস্তি বেড়ে যায় বা কমে যায়।

# এছাড়া বুকের নীচে ব্যথা, পেটে জ্বালা, গ্যাস, অম্বল, পেটভার, পেট ফুলতে থাকা, গা বমিভাব ইত্যাদি সমস্যা দেখা যায়।

# অনেক সময় আলসারের কারণে মুখ থেকে রক্ত পড়ে বা অনবরত বমির সঙ্গে বা স্টুলের সঙ্গে রক্ত পড়ে।

# ডিপ আলসারের কারণে অন্ত্রে ফুটো হলে প্রথমে প্রচণ্ড রকমের অ্যাবজেমিনাল পেন দেখা যায়।

করনীয় ঃ 

# হালকা, সহজপাচ্য খাবার খান।

# খুব বেশি ঝাল ও তেল- মশলাদার খাবার না খেলেই ভাল।

# নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার চেষ্টা করুন।

# স্মোকিং, অতিরিক্ত অ্যালকোহল এরিয়ে চলুন।

# মানসিক চাপ, অতিরিক্ত পরিশ্রমের চাপ পরিহার করা প্রয়োজন।

হেমিওপ্যাথিক চিকিৎসাঃ হোমিওপ্যাথিক নিয়ম অনুযায়ী প্রথমাবস্থায় এই রোগের চিকিৎসা করালে অপারেশনের প্রয়োজন থাকেনা। এ রোগে হোমিওপ্যাথিক ওষুধের প্রয়োগ সংকেত অত্যন্ত কার্যকরী। লক্ষণ সাদৃশ্যে নির্দিষ্টমাত্রায় নিম্নলিখিত ওষুধ ব্যবহৃত হয়। যথা- নাক্সভমিকা, পালসেটিলা, চায়না, বেলেডোনা, এবিস নায়গ্রা, লাইকোপোডিয়াম, নেট্রাম সালফ, আর্জেন্ট নাইট্রিকাম, আর্সেনিক, ক্যালি বাইক্রম, ইউরেনিয়াম নাইট্রিকাম,

অ্যানাকার্ডিয়াম, চেলিডোনিয়াম, হ্যামামেলিস, ইপিকাক, অ্যানুমিনা, হাইড্রাসটিস, সিকেলী উল্লেখযোগ্য। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও ঔষধ সেবন করা ঠিক হবে না।