রাজশাহীকে যুগোপযুগী, কর্মমুখর ও আধুনিক গড়তে কাজ করে যাচ্ছিঃ মেয়র লিটন।

 প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২০, ০৮:২৯ অপরাহ্ন   |   বিনোদন


লিয়াকত রাজশাহী ব্যুরোঃ রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন বলেছেন, রাজশাহীতে দীর্ঘদিনেও শিল্পায়ন গড়ে ওঠেনি। সেকারণে এখানে কর্মসংস্থানের সুযোগও কম। কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে পরিকল্পনা করা হচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে রাজশাহীতে তিনটি শিল্পাঞ্চল অনুমোদন দিয়েছেন। বিসিক শিল্পনগরী-২ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও চামড়া শিল্প পার্কের কাজ শুরু হবে। এই তিনটি শিল্পাঞ্চলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।    


রবিবার বিকেলে সিরোইল বাস্তুহারা স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির আয়োজনে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মেয়র। রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের প্রচেষ্টায় বাস্তুহারাপাড়া প্রায় ১৮ বিঘা সম্পত্তি উদ্ধার হওয়ায় সভায় শুরুতে মেয়র লিটনকে ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করেন বাস্তুহারাপাড়াবাসী। সভায় ২১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. তোজাম্মেল হক বাবলু সভাপতিত্ব করেন।


সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র আরো বলেন, প্রশস্ত ও সুন্দর রাস্তা, ফুলে ফুলে সাজানো শহর, পার্কসহ বিভিন্ন বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তুলে কোন লাভ হবে না, যদি মানুষের হাতে অর্থ না থাকে।  মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। রাজশাহীতে আন্তর্জাতিক নৌবন্দর প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে অগ্রগতি হয়েছে। রাজশাহী-কলকাতা সরাসরি ট্রেন যোগাযোগও চালু করতে চাই। আগামীর যুগোপযুগী, কর্মমুখর ও আরো আধুনিক রাজশাহী গড়তে কাজ করে যাচ্ছি।


মেয়র আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গৃহহীণ মানুষদের গৃহ নির্মাণ করে দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় বাস্তুহারাপাড়াবাসীদের জন্য গৃহনির্মাণ করে দেওয়ার পরিকল্পা রয়েছে। 


সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মতিউল হক টিটো, সিরোইল বাস্তুহারা স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির আহবায়ক মোঃ সোহেল রানা, যুগ্ম আহবায়ক মোঃ সোহরাব হোসেন, যুগ্ম আহবায়ক মোঃ দুলাল হোসেন। সভায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও গণমান্য ব্যক্তিবর্গসহ বাস্তুহারাবাসী অংশ নেন।


সভায় বক্তারা বলেন, ৪ নভেম্বর ছিল আমাদের ঈদের আনন্দের দিন। মাননীয় মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের একক প্রচেষ্টায় আমাদের জায়গাটি উদ্ধার হয়। ভূমিদস্যুরা মূল্যবান সম্পত্তি দখলে নিতে বিভিন্নভাবে অপচেষ্টা চালিয়েছে। মেয়র মহোদয়ের কারণে সেই অপচেষ্টা র্ব্যথ হয়েছে। বাস্তুহারা পাড়াবাসীর মুখে হাসি ফুটেছে।  


আলোচনা সভা শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের শহীদ সদস্যবৃন্দ এবং জাতীয় চার নেতার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। 


উল্লেখ্য, মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় শিরোইল বাস্তুহারা পাড়ার প্রায় ২০০ কোটি টাকার সরকারি ১৮ বিঘা জমি উদ্ধার হয়েছে। এতে বাস্তুহারাপাড়ায় বসবাসকারী ৭০টি পবিবারের মুখে হাসি ফুটেছে। গত ৪ নভেম্বর রাজশাহী জেলার বিজ্ঞ অতিরিক্ত জজ এবং অর্পিত সম্পত্তি প্রর্ত্যপণ আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আব্দুস সালাম বাস্তুহারাপাড়ার অর্পিত সম্পত্তি মামলায় সরকারপক্ষে আপিল রায় প্রদান করেন।


বাস্তহারা পাড়ার বাসিন্দারা প্রায় ২০০ বছর ধরে সেখানে অর্পিত সম্পত্তি লিজ নিয়ে বসবাস করে আসছে। ২০১৩ সালে জায়গাটি অর্পিত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত ‘ক ’তফসিল ঘোষণা করে সরকার। এরপর ২০১৩ সালেই কাদিরগঞ্জের মঈনউদ্দিন সরকার মনির, রশিদ আকতার, রুনা লায়লা ও রশিদা খাতুন জায়গাটির মালিকা দাবি করে অর্পিত সম্পত্তি তালিকা থেকে অবমুক্ত করতে রাজশাহী জেলার অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন (অর্পিত মামলা নং-১৫৯/২০১৩)। ৬ জুন ২০১৬ তারিখে বাদীপক্ষের পক্ষে (সরকার পক্ষের বিপক্ষে) রায় ঘোষণা করেন আদালত। ৩০ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে সরকার পক্ষে জেলা প্রশাসক, রাজশাহী ওই রায়ের বিরুদ্ধে অর্পিত সম্পত্তি প্রর্ত্যপণ আপিল ট্রাইব্যুনালের আপিল করেন (অর্পিত আপিল মামলা নং-১৪/২০১৬)। ৪ নভেম্বর অর্পিত সম্পত্তি প্রর্ত্যপণ আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ে জায়গাটি সরকারের বহাল থাকলো।

বিনোদন এর আরও খবর: