স্বাধীন সাংবাদিকতার সংকট ও ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা
দৈনিক অর্থনীতির কাগজ-এর সম্পাদক এহছান খান পাঠান তাঁর ফেসবুক পোস্টে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে গভীর ও চিন্তাজাগানিয়া বক্তব্য তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে—ভিন্নমত ও বৈচিত্র্যই একটি গণতান্ত্রিক সমাজের মূল শক্তি, আর সেই বৈচিত্র্যের প্রধান বাহন হলো গণমাধ্যম।
তিনি মনে করিয়ে দেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা কেবল সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার নয়; এটি নাগরিকের জানার অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনার একটি অপরিহার্য পূর্বশর্ত। অর্থাৎ, গণতন্ত্র টিকে থাকার জন্য স্বাধীন সাংবাদিকতা কোনো বিলাসিতা নয়, বরং একটি মৌলিক শর্ত।
তবে বাস্তবতা হলো—বাংলাদেশে স্বাধীন সাংবাদিকতা সবসময়ই নানা ধরনের চাপে থাকে। এই চাপ শুধু রাষ্ট্র বা ক্ষমতাকেন্দ্র থেকেই আসে না; বরং সমাজের বিভিন্ন স্তর, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এবং অদৃশ্য শক্তিও এর পেছনে ভূমিকা রাখে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই চাপ আরও ঘনীভূত হয়েছে সাংবাদিক সমাজের ভেতরের অনৈক্যের কারণে।
এহছান খান পাঠান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন যে, রাজনৈতিক বিভাজন, আদর্শিক দ্বন্দ্ব, গণমাধ্যম মালিকদের স্বার্থ এবং ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা—সব মিলিয়ে সাংবাদিক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে বিভক্ত। এই বিভক্তি সাংবাদিকতার নৈতিক শক্তিকে দুর্বল করেছে এবং স্বাধীনভাবে সত্য প্রকাশের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি ইঙ্গিত দেন, কেবল বাহ্যিক চাপের সমালোচনা করলেই হবে না; সাংবাদিকতার ভেতরের দুর্বলতাগুলোকেও স্বীকার করতে হবে। আর্থিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক স্বনির্ভরতা, শক্তিশালী নৈতিক মানদণ্ড এবং সুস্পষ্ট পেশাগত আচরণবিধি ছাড়া টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়।
সবশেষে বলা যায়, এহছান খান পাঠানের বক্তব্য একটি আত্মসমালোচনামূলক আহ্বান। স্বাধীন সাংবাদিকতা রক্ষার লড়াইয়ে ঐক্য, নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব—এই তিনটি স্তম্ভ মজবুত না হলে গণতন্ত্রও দুর্বল হয়ে পড়বে।
