মুকসুদপুরে খাল খননের নামে চলছে সরকারের কোটি টাকা হরিলুট।

 প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২১, ০৫:২৪ অপরাহ্ন   |   মুকসুদপুর


শহিদুল ইসলাম শহিদ: কাজি মোঃওহিদুল ইসলাম ঃ

 গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার ফসলি জমিগুলোকে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে জমিতে পানির সেচের ব্যবস্থা করার জন্য এলাকার ভরাট হয়ে যাওয়া খালগুলোকে খননের উদ্যোগ গ্রহন করেছে বর্তমান জনকল্যাণমুখি সরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে খাদ্য সনির্ভার স্বল্পোতা অর্জনের লক্ষে কৃষি খাতে ব্যাপক উন্নয়নমূখি কর্মসূচী গ্রহন করেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় মুকসুদপুর উপজেলায় ভরাট হয়ে যাওয়া বিভিন্ন নদী ও খাল খননের কর্মসূচী গ্রহন করেছে।

জানা গেছে,মুকসুদপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের আটাডাংগা বাওর হতে নাওরা কদমপুর হয়ে মুকসুদপুর বাওর পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার খাল খননের কার্যত্রুম সম্পূন্ন হয়েছে। আনুমানিক ১৭ ফুট দৈর্ঘ ও ৭ ফুট  গভীরতা করে  এতে ১কোটি ১৮ লক্ষ ৪৬ হাজার ৬৭৮ টাকা ব্যয়ের বরাদ্দ ধরে খাল খননের প্রকল্প তৈরী করেছে উদ্ধর্তন কর্মকর্তাগণ। মোঃ মশিউর রহমান মিয়া সভাপতি,কামরুল ফকির সহ সভাপতি, শাহনেওয়াজ সাধারন 

সম্পাদক,আমিনুর মুন্সী কোষাধ্যক্ষ  ও নুর হাসান সরদার সদস্য সহ ১২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি মুকসুদপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের সুরপী পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিঃ এই খাল খননের দায়িত্ব পেয়েছে। একই ইউনিয়নের অর্জুনদা গ্রামের ভেকু মালিক এনায়েত মুন্সীর সাথে সমবায় সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান মিয়া খাল খননের চুক্তি করেছি । প্রতি কিলোমিটার খাল খননে ৬ লক্ষ টাকা মোট ৩ কিলোমিটার খাল খনন ১৮ লক্ষ টাকার মাধ্যমে খননের কাজ সম্পূন্ন করেছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। এব্যাপারে কমিটির সদস্য নুর হাসান সরদারের সাথে মোবাইল ফোনে আলাপকালে তিনি জানান - ৩ কিলোমিটার খাল ভেকুর মালিক অর্জুনদা গ্রামের  এনায়েত মুন্সী ১৯ লক্ষ টাকার চুক্তির  বিনিময়ে খননের কাজ সম্পূন্ন করেছে। খাল খননের অনিয়মের কারনে এলাকার ফসলি জমির চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগে পাওয়া গেছে। খাল খনন করে মাটি খালের পাশে ফেলার নিয়ম থাকলেও তারা  বিশৃংখলা ভাবে ফসলি জমিতে মাটি ফেলায় চাষীদের ফসলের ক্ষতি হয়েছে। গত ৬ মে ২০২১ তারিখে ক্ষতিগ্রস্ত চাষী কদমপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন ফকির  ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের ক্ষতিপুরন দাবী করে মুকসুদপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। 

স্থানীয় জনগণের প্রশ্ন গোবিন্দপুর ইউনিয়নের আটাডাংগা বাওর হতে নাওরা কদমপুর হয়ে মুকসুদপুর বাওর পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার খাল খননের প্রায় ১৮ লক্ষ টাকায় সম্পূন্ন হয়েছে। বাকী ১কোটি ৪৬ হাজার ৬৭৮ টাকা  সরকারের বরাদ্দকৃত টাকা এখন কি হবে। মুকসুদপুর উপজেলায় খাল খনন প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারের কোটি কোটি টাকা হরিলুট হচ্ছে বলে এলাকার  জনগণ জানান। 

এলাকার জনগণের অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে সরেজমিন গেলে ঘটনার সত্যতা খুজে পেয়েছে। সাংবাদিকরা  সরেজমিনে গিয়ে দেখতে পান যে,নদীটি অনেক দিন যাবৎ খননের অভাবে কৃষকরা নদী থেকে জমিতে প্রয়োজনমতো পানি সরবরাহ করতে পারেন তাই নদী খননের কথা শুনে নদীর পাড়ে থাকা শত শত কৃষক খুশি হয়েছিলেন কিন্তু সেই কৃষকরা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন যে,নদী খননের কাজ যে প্রতিষ্ঠান পেয়েছেন তারা স্হানীয় কদমপুর গ্রামের আবুবকর মুন্সির ছেলে আমিনুর মুন্সির  যোগসাজসে। পাথরািল গ্রাম নিবাসী হাসমত/ রহমত দুই ভাইয়ের জায়গায় ছোট খালের উপর কালিদাহরপাড় ব্রিজের নিচ থেকে দেড় লক্ষ টাকার মাটি ড্রেজারের মাধ্যমে উত্তোলন করেছে।এতে একদিকে যেমন ব্রিজটি ক্ষতির সম্মুখীন অন্যদিকে সরকারের ক্ষতি করে লাবের জন্য  নদী খননের জন্য প্রতারনা করছে।সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর ঠিকাদার মশিউরের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার কথা নিশ্চিত করে বলেন যে,প্রথমে একটু অনিয়ম হয়েছে, পরে ঠিক হয়ে যাবে।পরে নদীর পাশে বসবাসকারী কৃষকেরা উত্তেজিত হয়ে  ঠিকাদার মশিউরের উপর চড়াও হয় এক পর্যায়ে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে,এসময় এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের সমন্বয়ে ঘটনাটি দামাচাপা দেওয়া হয়।এ সুযোগে টিকাকার প্রতিষ্ঠানটি আরো অনেকের বাড়ি মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে মাটি ভরাট করে দেয়।তাই নদী খননের পাশে থাকা কৃষকদের দাবি নদী খননের নামে যে প্রতারনা ও

এভাবে খাল খননের নামে সরকারের অর্থ আত্মসাৎ হচ্ছে  ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের তাদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠ নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইননুসারে তাদের শাস্তির জোর দাবি জানান এবং মুকসুদপুর- কাশিয়ানীর উপজেলার উন্নয়নের রুপকার গোপালগঞ্জ ১, আসনের সংসদ সদস্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ ফারুক খান এমপি মহোদয়সহ নদী খননের কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন এলাকার ভুক্তভুগি কৃষকেরা।

মুকসুদপুর এর আরও খবর: